শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

যমুনার পানি বিপদসীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ।

আজ বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ডপয়েন্ট এলাকায় পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৮ ও কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে জেলার বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং নানা ধরনের ফসলের মাঠ। পানিবন্দি অনেক মানুষ বাঁধ ও উঁচু স্থানে ঘর তুলে অবস্থান করছেন।

এছাড়া, পানি বাড়ায় নদী-তীরবর্তী কাজিপুর উপজেলার ক্ষুদবান্ধি, সিংগড়াবাড়ি ও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীতে ভাঙন বেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্যাকবলিত জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার দেড় লাখ মানুষ।

এদিকে, সদর উপজেলার শিমলায় পাউবোর ক্ষতিগ্রস্ত ‘শিমলা স্পার’টির আরো প্রায় ৫০ মিটার পাকা কংক্রিট অংশ গত সোমবার (১৪ জুলাই) নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে তিনবার ধসে পড়ল স্পারটি। ৫০ মিটার মাটির ও ৫০ মিটার পাকা কংক্রিট অংশসহ ঘূর্ণাবর্তের কারণে সোমবার ১০০ মিটার নদীতে চলে যায়। পানির মধ্যে বাকি ৫০ মিটার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।

এছাড়া, বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় রয়েছে। এর মধ‌্যে ২৪০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও এক হাজার ৬৮০টি ঘরবাড়ি আংশিক, তিন হাজার ৫৫০ হেক্টর ফসলি জমি, ৩০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও পাঁচটি আংশিক, ৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৭ কিলোমিটার আংশিক, তিনটি ব্রিজ ও কালভার্ট সম্পূর্ণ ও সাতটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৫টি ইউনিয়নের ২৪০টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার পরিবারের এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫৮ টন জিআর চাল, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ ও শিশুখাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং ৩০ হাজার টন শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com